দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলাকে ‘উসকানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।
রোববার গিলান প্রদেশের গভর্নর হাদি হাঘ-শেনাস জানান, হামলায় জাহাজটির তিনজন নাবিক আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, লোহা বহনকারী জাহাজটি রাশিয়ার আস্ত্রাখান বন্দর থেকে ইরানের আনজালি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, এই নৌপথ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করিডর হিসেবে পরিচিত।
ইউক্রেন শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, হামলাটি ইরানের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ‘অযৌক্তিক ও বৈরী নীতির ধারাবাহিকতা’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের নেতৃত্বের ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ সব ধরনের পরিণতির দায় কিয়েভ এবং তাদের সমর্থক ও উসকানিদাতাদের বহন করতে হবে।
হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনার জবাবহীন থাকবে না।”
অন্যদিকে, ইউক্রেন দাবি করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ইউক্রেন ‘খুব ভালো ফল’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইরান থেকে সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজও ছিল।
এদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও কাস্পিয়ান সাগর উপকূলবর্তী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার গিলান প্রদেশের জিবাকেনার এলাকায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটিতে বিমান হামলা হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে হামলার পরিধি বাড়ায়।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/