দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের উত্তর প্রদেশে এক ব্যতিক্রমী বিয়েকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। রাজ্যটিতে একই যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন। এর মধ্যে দুজন আপন বোন এবং একজন তাদের চাচাতো/মামাতো বোন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়ায় বিয়ের পর আলাদা থাকতে চাননি। তাই পারস্পরিক সম্মতিতেই একই ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ওই তিন তরুণী একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে একই যুবককে বিয়ে করছেন বলে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়। ভিডিওতে যুবককে প্রথমে আগুনকে কেন্দ্র করে সাতপাক ঘুরতে এবং পরে তিন কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে থাকা তিন তরুণীর নাম সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। তারা আমরোহার ধোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের মধ্যে দুজন আপন বোন এবং অন্যজন চাচাতো বা মামাতো বোন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক পোস্টে তিনজনকেই আপন বোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বরের নাম বিকাশ। তিনি ভিক্কু নামেও পরিচিত। জানা গেছে, তিনি তিন তরুণীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ধারণ করতেন। তাদের দাবি, গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন ভিডিওতে বিকাশ তাদের পর্দার স্বামী হিসেবে অভিনয় করছিলেন।
প্রথমে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তৈরি করা একটি ভিডিও। তবে পরে চারজনই ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, এটি বাস্তব বিয়ে, কোনও রিলস তৈরির জন্য সাজানো অনুষ্ঠান নয়।
তিন তরুণীর দাবি, তারা ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের পর আলাদা থাকতে চাননি। তাদের ভাষ্য, পরিবারের সদস্যরা তাদের আলাদা আলাদা পাত্রের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে আলোচনা করে তারা সবাই মিলে বিকাশকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে একসঙ্গেই থাকতে পারেন।
তারা আরও বলেন, সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে কটূক্তি বা ট্রল না করার আহ্বান জানান তারা।
তিন তরুণীর একজন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। আলাদা হয়ে থাকার কথা কল্পনাও করতে পারিনি। যখন বুঝলাম বিয়ের পর আলাদা হয়ে যেতে হবে, তখন আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত নিই, মৃত্যুর পথ বেছে না নিয়ে একসঙ্গেই থাকব এবং একজনকেই বিয়ে করব। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জানা গেছে, সরোজ বর্তমানে বিটেকে পড়ছেন। আর সাবিত্রী ও সন্তোষ উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। বিকাশ বলেন, তিন তরুণীর মধ্যে গভীর সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি তাদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
জানা গেছে, ভিডিওটি হাসানপুরের মা চামুণ্ডা মন্দিরে ধারণ করা হয়েছে। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কোনও বিয়ের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
তাদের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় মন্দিরে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছিল। তখন সেখানে কোনও পুরোহিত বা মন্দিরের কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। তাই এমন কোনও অনুষ্ঠান হওয়ার বিষয়েও তারা অবগত নন।

অবশ্য ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এই বিয়ের বৈধতা এবং ভিডিওতে দেখানো ধর্মীয় আচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে অনেকে বলছেন, যদি সংশ্লিষ্ট সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং তাদের সম্মতি থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা তাদের থাকা উচিত।
যদিও ১৯৫৫ সালের হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, বহুবিবাহ বৈধ নয়। আইনটির ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বৈধ হিন্দু বিয়ের জন্য বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর অন্য কোনও জীবিত জীবনসঙ্গী থাকতে পারবে না। অর্থাৎ, একজন হিন্দু পুরুষ একই সময়ে একাধিক নারীকে আইনিভাবে বিয়ে করতে পারেন না। প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে আইনগতভাবে অবৈধ।
এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৮২ ধারার আওতায় (আগের ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা) বহুবিবাহের অভিযোগে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেয়া যেতে পারে।
কে