দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে না বলে আবারও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। তবেই পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, “এটি করতে হলে তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে। এই চুক্তি অত্যন্ত সফল হয়েছে। এখন সময় এসেছে সৌদি আরবও এতে যোগ দেওয়ার।”
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে দেশটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই হবে চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত।
শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা হয়নি। তবে “এটি আগে থেকেই সবার জানা ছিল। ক্রিসও জানতেন, সৌদি আরবও জানত।”
এ বিষয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই রিয়াদ বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। যদিও বর্তমান ইসরায়েলি সরকার এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।
চুক্তি ঘোষণার সময় ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরলেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি উল্লেখ করেনি।
বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, “এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে, দেশের সমৃদ্ধি বাড়াবে এবং মিত্রদের নিরাপত্তা জোরদার করবে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কয়েক দশকব্যাপী বহুবিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব, যা এখন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এর আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে না।
যদিও পরে ট্রাম্প দাবি করেন, “কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না।”
৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ চুক্তি জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বৃহস্পতিবার দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হবে না। কারণ পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ওয়াশিংটন পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি রাখবে।
মার্কিন পারমাণবিক চুল্লি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসকে এ প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/