দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তার এই আশ্বাসেও রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভ থামেনি। বরং আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষণায় তাদের মূল দাবিগুলোর কোনো সমাধান আসেনি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।’ তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জাতীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা টানা তিন দিন ধরে সংসদ সড়ক দখল করে অবস্থান করছেন। সংসদ ভবন থেকে রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র কানাট প্লেস পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও অনেক আন্দোলনকারী অবস্থান নিয়েছেন।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এটি গত মে মাসে গঠিত হয়। পরে এটি পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, বাইরে থেকে লোক এনে ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনে সহিংসতা উসকে দিয়ে বিক্ষোভকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, ‘মনে হচ্ছে মোদি পুরো দিল্লি বন্ধ করতে প্রস্তুত, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে প্রস্তুত নন।’
সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। তার ভাষায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল কারণ বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নয়, বরং শিক্ষামন্ত্রীর ব্যর্থতা।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং সাম্প্রতিক পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা অন্তত ১২ শিক্ষার্থীর প্রতিটি পরিবারকে এক কোটি রুপি করে আর্থিক সহায়তা প্রদান।
আল জাজিরার নয়াদিল্লি প্রতিনিধি নীহা পুনিয়া জানান, সোমবার সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেওয়ার পর রাজধানীতে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভস্থলের আশপাশের ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সোমবার পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের পরিবর্তে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
সোমবার সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। বুধবার মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও পাটনাসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দ্রুত উত্থান উচ্চ বেকারত্ব এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে বিরোধীদের জন্যও নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
/অ