দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মাছ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অতিরিক্ত আমদানি ব্যয়ের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আমদানি সীমিত করায় বাজারে সরবরাহ ও সরকারের রাজস্ব আয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক মাছ আমদানি হলেও নতুন বাজেট কার্যকর হওয়ার পর সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আমদানিকারকদের ভাষ্য, নতুন অর্থবছরে মাছ আমদানির মোট শুল্কহার ৪৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মিঠা পানির মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৮৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শুল্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করায় আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। এতে লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে মাছ আমদানি বন্ধ বা সীমিত করেছেন।
আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব বন্দরনির্ভর শ্রমিক, ট্রাকচালক ও পরিবহন খাতেও পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাছ পরিবহনের কাজ কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক ও পরিবহনকর্মী কর্মসংকটের মুখে পড়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক আসওয়াদুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে মাছের আমদানি কিছুটা কমেছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত মাছ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মুক্তা চৌধুরী জানান, নতুন বাজেট কার্যকরের পর ১১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৩৮৬ টন মিঠা পানির মাছ এবং ১৯৪ টন সামুদ্রিক মাছ আমদানি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান শুল্ক কাঠামো বহাল থাকলে আমদানি আরও কমে যাবে এবং এর প্রভাব সরকারি রাজস্ব আদায়েও পড়তে পারে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা মাছ আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কহার পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান শুল্ক কাঠামো অব্যাহত থাকলে মাছের সরবরাহ, ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এমএম/