দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য কানে কানে বলেছিলেন, ‘এই সরকারকে সরিয়ে দিন।’
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, ‘পুলিশ আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তারা কানে কানে বলছিল, ‘এই সরকারকে সরিয়ে দিন। আমি রাজস্থান থেকে এসেছি, আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমরা শুধু পোশাক পরেছি।’
তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরা নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হলেও তারাও বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নন। রাহুলের ভাষায়, ‘তারা জানে একটি অপরাধ হচ্ছে। তারা এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে নিজেদের সন্তানদেরই দেখতে পাচ্ছে।’
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের আকস্মিক বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলটির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা রাহুলকে হাত-পা ধরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে তাকে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে আটক রাখা হলেও রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জনগণের কষ্ট ও শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরাই তার দায়িত্ব। পুলিশি আচরণকে তিনি ‘ছোট মূল্য’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘ঘুষি-লাথি খাওয়ায় আমার কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন হলে আরও অনেক কিছু সহ্য করতে প্রস্তুত আছি।’
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন রাহুল। তার দাবি, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু একটিতেও দোষীদের সাজা হয়নি। তার ভাষায়, ‘গড়ে প্রতি মাসে একটি করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এতে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের পদত্যাগের দাবি যৌক্তিক এবং তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা উচিত।
/অ