দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংসদ অভিমুখে নজিরবিহীন বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা আবারও দিল্লির যন্তর-মন্তরের আশপাশে জড়ো হতে শুরু করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকাটিতে এখনও ১৬৩ ধারা বহাল আছে। তাই কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এনডিএ জোটের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তরুণদের কাছে গিয়ে তাদের সংশয় দূর করতে এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মোদির বক্তব্যের বরাত দিয়ে ওই সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে।
সোমবার থেকে ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে। এদিনই মেডিকেলে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রায় ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামেন। পথে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ওই সময় দেড় শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হন। মঙ্গলবার দিল্লির একটি হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। পরে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় এক ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
সিজেপির অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী একটি ট্রাকেও হামলা চালিয়েছে। ওই ট্রাকে দীপকের সঙ্গে ছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এবং অভিনয় শিল্পী শাবানা আজমী ও প্রকাশ রাজ।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাপক ধরপাকড়ের পর সোমবার মধ্যরাতেও বিক্ষোভকারীরা যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে তারা কেন্দ্রীয় সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। মঙ্গলবার রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে।
সিজেপির অবস্থান কী?
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিজেপি মিছিল করবে না। তবে অভিজিত দীপকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (শিক্ষামন্ত্রী) বাঁচাতে সরকার আরও অনেক তরুণের রক্ত ঝরাতেও রাজি...। আমরা আপনাদের সবার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
সিজেপি এদিন আবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সরকার নিজেরাই নিজেদেরকে লজ্জায় ফেলছে। তারা চাইলে অনেক আগেই পদত্যাগের (শিক্ষামন্ত্রীর) ঘটনা ঘটতো। কিন্তু বিজেপি নেতারা অহংকারে ডুবে আছেন।
কেএম