দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই এ পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।
পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটির আয়তন ম্যানহাটন দ্বীপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একে ইরানের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার ‘কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
খার্গ দ্বীপের গভীর পানির জেটিগুলো এই অঞ্চলের অল্প কয়েকটি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, যেখানে বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্বীপটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দেশটির অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত।
১৯৮৪ সালের একটি অবমুক্ত সিআইএ নথিতে খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলোকে ‘ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে খার্গ দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দশক আগেও, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। চলমান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দ্বীপটিতে হামলাও চালিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এ পরিকল্পনা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আর্থিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রশাসনের অন্য অংশ এ ধরনের অভিযানের ব্যাপারে সতর্ক। তাদের উদ্বেগ, খার্গ দ্বীপ দখলের জন্য বড় ধরনের স্থল অভিযান ও সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
/অ