দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দিয়েছেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য বার্ষিক টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা চালু করা হবে।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় হেগসেথ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এটি সেনাসদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যা প্রতি বছর সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। ৩০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের জন্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও এর নিচের বয়সীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক থাকবে।
হেগসেথ জানান, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া বা টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন থেরাপি গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কৃত্রিমভাবে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়; বরং সেনাসদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা রক্ষা এবং যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক ভিত্তি নিশ্চিত করার অংশ।
হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো ‘ব্যক্তিগত যোদ্ধার’ সক্ষমতা, আর নতুন এই কর্মসূচি সেই সক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ।
পেন্টাগনে টেস্টোস্টেরন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৫ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের একটি বিধানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কংগ্রেসকে কম টেস্টোস্টেরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছিল।
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বা ৪০ বছর বয়সের পর পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ করে কমতে পারে।
হেগসেথের এই ঘোষণা সামরিক বাহিনীর শারীরিক মানদণ্ড ও আচরণবিধি পুনর্গঠনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ। এর আগে তিনি সেনাবাহিনীতে শারীরিক সক্ষমতা ও বাহ্যিক উপস্থিতির মান নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
তবে ঘোষণাটি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এটিকে হেগসেথের লিঙ্গ পরিচয় ও হরমোন-সম্পর্কিত নীতির অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ বলেন, এই উদ্যোগ তার কাছে ‘লিঙ্গ-স্বীকৃতিমূলক চিকিৎসার মতো’ মনে হয়েছে। প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহান বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হেগসেথ পুরুষতান্ত্রিক অনলাইন গোষ্ঠীর প্রভাবের দিকেই ঝুঁকছেন।
দুই আইনপ্রণেতাই সামরিক বাহিনীর নারী সদস্যদের জন্যও হরমোন পরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের উচ্চ হারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
/অ