দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ধরনের অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে তা এখনো সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বুধবার পেনসিলভানিয়ার কার্লাইলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ওয়ার কলেজে একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া বিনিয়োগের প্রশংসা করে আসলেও, তার বক্তব্য এমন এক সময়ে আসছে যখন ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করেছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ কমেছে, তবে এখনো তা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যায়ে রয়েছে।
কোন অস্ত্র কতটা ব্যবহার হয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে ৩৯ দিনের প্রথম দফার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এসব হামলায় প্রধানত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, জেএএসএসএম, পিআরএসএম, এসএম-৩, এসএম-৬, থাড এবং প্যাট্রিয়ট ব্যবহৃত হয়েছে।
সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী—
-টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৩ হাজার ছিল। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।
-জেএএসএসএম ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় ৪ হাজার মজুতের মধ্যে প্রায় এক হাজার ১০০টি ব্যবহার হয়েছে।
-পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র: ২০২৩ সাল থেকে সরবরাহ করা এই নতুন অস্ত্রের মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০টি। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৭০টি ব্যবহার হয়েছে।
-এসএম-৩ ক্ষেপণাস্ত্র: যুদ্ধের আগে প্রায় ৪১০টি ছিল। এর মধ্যে ১৩০ থেকে ২৫০টি ব্যবহার হয়েছে।
-এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় এক হাজার ১৬০টির মধ্যে ১৯০ থেকে ৩৭০টি ব্যবহার করা হয়েছে।
-থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: প্রায় ৩৬০টির মধ্যে ১৯০ থেকে ২৯০টি ব্যবহারের হিসাব রয়েছে।
-প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় দুই হাজার ৩৩০টির মধ্যে এক হাজার ৬০ থেকে এক হাজার ৪৩০টি ব্যবহার হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদে ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে দেশটি চাপের মুখে পড়তে পারে।
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ও ব্যয়বহুল এসব অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে আগের মজুত পর্যায়ে ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধ চলাকালে বারবার বলেছেন, দেশটির অস্ত্র সরবরাহ ‘সীমাহীন’। তবে মার্চে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তারা উৎপাদন চার গুণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এরপর জুনে ট্রাম্প প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন ব্যবহার করে অস্ত্র নির্মাতাদের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পেন্টাগনের সময়সংক্রান্ত উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
মিত্রদের সহায়তায় প্রভাব পড়তে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হতে পারে। ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে থাড ও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
জাপানের রেথিয়ন থেকে ৪০০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনার সরবরাহ ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে হওয়ার কথা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মে মাসে জানান, এতে আরও দুই বছর সময় যোগ হতে পারে।
সুইজারল্যান্ডও ২০২২ সালে লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার পর ফ্রান্স, ইসরায়েল ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় গেছে।
মজুত পূরণে কত সময় লাগবে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী মজুত পূরণ করতে ‘মাস ও বছর’ সময় লাগতে পারে।
সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর মজুত পূরণে সময় লাগতে পারে—
-টমাহক: ৪ থেকে ৫ বছর
-জেএএসএসএম: প্রায় ১ বছর
-পিআরএসএম: প্রায় ৮ মাস
-এসএম-৩: প্রায় ৩ বছর
-এসএম-৬: প্রায় ৩ বছর
-থাড: ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছর
-প্যাট্রিয়ট: প্রায় ৩ বছর
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও দ্রুত আগের মজুত ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
/অ