দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৪ জন স্বঘোষিত ‘গরু রক্ষককে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর প্রাণনাশের হুমকি ও অনলাইন বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন মুসলিম নারী বিচারক তাবাসসুম খান। ঘটনাটি দেশটির বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত ১২ জুন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান রায়ে ১৪ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা এবং বেআইনি আটকের মতো অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৫০ বছর বয়সী নাজির আহমদ রাতে গবাদিপশু পরিবহন করছিলেন। এ সময় লাঠি ও লোহার রড হাতে একদল স্বঘোষিত ‘গরু রক্ষক’ তার গাড়ি থামিয়ে গরু পাচারের সন্দেহে তাকে ও তার দুই সঙ্গীকে মারধর করে। গুরুতর আহত নাজির আহমদ পরে মারা যান। অপর দুইজন বেঁচে গিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেন।
রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান ঘটনাটিকে ‘স্পষ্ট গণপিটুনির ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রায়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারককে লক্ষ্য করে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভিডিওতে দাবি করা হয়, তিনি মুসলিম হওয়ায় হিন্দু আসামিদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরাও বিক্ষোভ করেন এবং দাবি করেন, ‘গরু রক্ষার’ জন্যই তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরে ডানপন্থি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে বিচারকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিক্ষোভও করে।
ভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মার্কান্ডে কাটজু বলেন, বিচারকের আইনি যুক্তি নয়, বরং তার ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।
হুমকির ঘটনায় বিচারককে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) হুমকির নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং তার পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/