দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে আজ ওমানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
প্রশ্ন উঠেছে, সাম্প্রতিক মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় প্রকাশ্যে খুব বেশি সক্রিয় না থাকা সত্ত্বেও কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে ওমানের রাজধানী মাসকাটে?
এর প্রধান কারণ, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সংলাপ করবে ইরান।
বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যখন ওমানের জলসীমা ঘেঁষা একটি নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকা উচিত। তাদের অনুমোদন ছাড়া ওমানের পাশের নৌপথ ব্যবহার করা যাবে না। ইরান চায়, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করুক।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরাঘচির ওমান সফর দুই দেশের চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ।
যদিও এখনও স্পষ্ট নয়, ওমান আবারও সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ফিরছে কি না। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, মাসকাট সফরের পর ইরান একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা না করার প্রতিশ্রুতি জানাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল ওমান।
তবে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরু করার পর দেশটির অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ওই হামলাকে ‘বিপর্যয়’ এবং ‘গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দেন।
এরপর মধ্যস্থতার দায়িত্ব অনেকটাই কাতার ও পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক জোটের পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
মে মাসে ওমান ও ইরান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন খবর প্রকাশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, ‘ওমানকে সবার মতো আচরণ করতে হবে, নইলে আমাদের তাদের ধ্বংস করে দিতে হবে।’
এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ দীর্ঘদিনের উপসাগরীয় মিত্র ওমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেয়।
এসব উত্তেজনা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি সংকটের সমাধানে ওমানের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুদ্ধবিরতির কাঠামোতেই ইরান ও ওমানকে প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে আরাঘচির বর্তমান মাসকাট সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নির্ধারণের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
/অ