দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের সাবমেরিন থেকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে দেশটির ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা।
সোমবারের এই পরীক্ষার মাধ্যমে চীনের সামরিক নেতৃত্ব গোপনে পরিচালিত পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো জটিল বিষয়গুলো মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি এই বিষয়গুলোও পরীক্ষার আওতায় ছিল।
তিনি বলেন, ‘এখানে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে মনে হচ্ছে তারা কার্যকর হামলা সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, চীন হয়তো দেখাতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার অবস্থানে পৌঁছাতে না পারলেও তারা গুয়াম ও হাওয়াইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হতে পারে।
চীনের পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রে একটি কৃত্রিম ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়ে।
তবে চীনের সরকারি গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা এটিকে একটি নিয়মিত সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, পরীক্ষাটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি এবং পুরো কার্যক্রম পেশাদারভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বলেছে, পরীক্ষাটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতিনীতি মেনে পরিচালিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চীনের পারমাণবিক শক্তি আধুনিকায়নের লক্ষ্য হলো জাতীয় কৌশলগত নিরাপত্তা রক্ষা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
পারমাণবিক কৌশলে সাবমেরিনের গুরুত্ব
বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি চীনের ছয়টি টাইপ-০৯৪ পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের একটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। চীনা গণমাধ্যম এটিকে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন হিসেবে উল্লেখ করলেও এর শ্রেণি নির্দিষ্ট করেনি।
পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ধরনের সাবমেরিনকে চীনের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। কারণ, এগুলো শত্রুর প্রথম আঘাতের পরও পাল্টা হামলার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
চীনের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলো যদি শনাক্ত না হয়ে কার্যক্রম চালাতে পারে, তাহলে দেশটির স্থলভিত্তিক অস্ত্র ধ্বংস হয়ে গেলেও পাল্টা হামলার সক্ষমতা বজায় থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নৌযান, পানির নিচের সেন্সর নেটওয়ার্ক এবং উন্নত নজরদারি ব্যবস্থাসম্পন্ন বিমান ব্যবহার করে চীনা সাবমেরিনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করে থাকে বলে সামরিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।
চীনের পারমাণবিক ত্রয়ী শক্তি
চীনের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে দেশটির স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের সবচেয়ে উন্নত সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র জেএল-৩-এর পাল্লা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। ধারণা করা হয়, এটি একাধিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
চীনের সরকারি সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চীনের পারমাণবিক ত্রয়ী শক্তি আরও জোরদার করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রমাণ।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিনের গোপন চলাচল, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রকৃত পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এখনো অনেক বিষয় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
/অ