দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর ইরাকের নাজাফে জড়ো হন লাখো মানুষ। নিজ জন্মস্থান মাশহাদে তাকে কবরস্থ করা হবে।
তবে তার দাফনের শেষ মুহূর্তে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের ওপর আবারও নতুন করে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা বন্ধ না করলে সামনে ‘আরও অনেক ভয়াবহ’ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিনে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাসহ নিহত হন। দীর্ঘ ৫ সপ্তাহের যুদ্ধের পর একটি ভঙ্গুর চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থামানো গেলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলীয় এলাকায় এই হামলা বাড়িয়েছে। এর আগে অবশ্য বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছিল তেহরান।
এদিকে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতাবা খামেনির নাম শোনা গেলেও তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। বাবার মৃত্যুর সেই একই হামলায় মোজতাবা গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জানাজার বিশালতা নিয়ে মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনি জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের সমাগম আশা করা হচ্ছে। ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে মরদেহ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার জানাজা পিছিয়ে দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খামেনিকে ইরানের সবচেয়ে পবিত্র উপাসনালয় ‘ইমাম রেজার মাজারে’ সমাহিত করা হবে। খামেনির ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে এখানে দাফন করা হচ্ছে, যেখানে এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ ইরানের বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব সমাহিত হয়েছেন।
ছয় মাস আগের অভ্যন্তরীণ সরকার বিরোধী বিক্ষোভের দমনপীড়ন এবং এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, এই বিশাল জানাজার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও জাতীয় ঐক্য প্রদর্শন করতে চাইছে তেহরান। রাজধানী তেহরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা, ধর্মীয় শহর কোম এবং প্রতিবেশী ইরাক ঘুরে খামেনির মরদেহ এখন মাশহাদে। শেষ বিদায়ের এই ক্ষণে খামেনির সঙ্গে একই কবরে সমাহিত করা হবে তার শিশু নাতনি, জামাতা, কন্যা এবং পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেলকে। তারা সবাই গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
কেএম