দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বুধবার তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৮১ ডলারে।
এর আগে মঙ্গলবারও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মতে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অর্ধেকের নিচে নেমে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হবে, যা তেলের দাম আরও বাড়াতে পারে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তখন অনেক বিনিয়োগকারী দাম আরও কমবে—এমন ধারণায় তেলের বাজারে বড় আকারের স্বল্পমেয়াদি অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় সেই হিসাব বদলাতে শুরু করেছে।
যদিও জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান, কাতার অভিযোগ করেছে, তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী একটি জাহাজে ড্রোন হামলাসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে তেহরানের হাত রয়েছে। এছাড়া ওমান উপকূলে সৌদি পতাকাবাহী একটি সুপার ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের পরিবর্তে নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সংঘাত শুরুর আগের মতোই এই নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন জ্বালানি খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুতও গত সপ্তাহে আরও কমেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে এবং তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/