দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রবল ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন। রাজধানী ওয়াশিংটনে বজ্রঝড়ের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গৌরবময় ও আনন্দের’ অধ্যায়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধাদের সম্মান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রশংসা করে দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে।
ভাষণে তিনি ভোটার পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর পক্ষে সমর্থন জানান। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশকে আবারও ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের ‘ক্যানসারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
নিউইয়র্কেও ঝড়ের আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আতশবাজির আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি ও বজ্রপাত না হওয়ায় হাজারো মানুষ নির্বিঘ্নে প্রদর্শনী উপভোগ করেন।
অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের হার্টফোর্ড এবং পেনসিলভানিয়ার হ্যারিসবার্গ ও উইলকস-ব্যারে শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। বোস্টনে আতশবাজি শুরুর আগে দর্শকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হলেও পরে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু হয়। পিটসবার্গেও সময় পরিবর্তন করে আতশবাজির আয়োজন করা হয়।
ওয়াশিংটনে বজ্রঝড়ের কারণে ন্যাশনাল মলে জড়ো হওয়া দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সরিয়ে কাছাকাছি জাদুঘর ও সরকারি ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দর্শকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও তাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। রেকর্ড তাপদাহের কারণে ওয়াশিংটন এলাকায় কয়েকটি শোভাযাত্রা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।
এদিকে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’-এর শতাধিক সদস্যও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এ নিয়ে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা সাধারণত ৪ জুলাইয়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য এড়িয়ে চললেও ট্রাম্প বরাবরের মতোই রাষ্ট্রীয় আয়োজনকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
তার প্রশাসনের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগের অধীনে ন্যাশনাল মলের বড় অংশজুড়ে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ফেরিস হুইল, বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং রক্ষণশীল সংগঠন ও প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্টল স্থান পেয়েছে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এ আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একপাক্ষিক ও অতিরিক্ত ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরছে এবং দাসপ্রথা ও বর্ণবৈষম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়াল করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/