দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিসরের পশ্চিম মরুভূমিতে শতাব্দীপ্রাচীন একটি বাইজেন্টাইন যুগের আবাসিক নগরীর সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগর উপকূলের আরেকটি প্রত্নস্থলে ১৮টি প্রাচীন সমাধিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, পশ্চিম মরুভূমির দাখলা ওয়েসিসে পাওয়া নগরীটি চতুর্থ শতাব্দীর। সে সময় মিসর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। আবিষ্কৃত স্থাপনাগুলো থেকে ওই সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নগর পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, উত্তর-দক্ষিণমুখী সড়কের সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সড়কের সংযোগে গড়ে উঠেছিল নগরীটি। সেখানে উন্মুক্ত চত্বর ও জনসমাগমের স্থানও ছিল।
নগরীর কেন্দ্রে চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের একটি ব্যাসিলিকা গির্জার ধ্বংসাবশেষ এবং নিরাপত্তার জন্য নির্মিত দুটি প্রহরী টাওয়ারের অস্তিত্বও মিলেছে।
এ ছাড়া মোটা প্রতিরক্ষা দেয়ালঘেরা একটি দুর্গ, অভ্যর্থনা কক্ষ ও খিলানাকৃতির ছাদযুক্ত একাধিক বাড়ি, রুটি তৈরির চুলা, রান্নাঘর এবং পাথরের খাদ্য পেষণ যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা বাইজেন্টাইন সম্রাটদের প্রতিকৃতি, লাতিন ভাষার লেখা ও খ্রিস্টীয় প্রতীকসংবলিত ব্রোঞ্জের মুদ্রার পাশাপাশি রোমান সম্রাট দ্বিতীয় কনস্টান্টিয়াসের শাসনামলের স্বর্ণমুদ্রাও উদ্ধার করেছেন।
এ ছাড়া প্রায় ২০০টি মৃৎখণ্ড পাওয়া গেছে, যেগুলো লেখার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এসব খণ্ডে বাণিজ্যিক লেনদেন, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলে ১৮টি প্রাচীন সমাধি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি পাথর কেটে নির্মিত এবং সাতটি চুনাপাথরের তৈরি।
সেখানে মাটির পাত্র, অ্যাম্ফোরা, প্রদীপ, থালা, বেদি ও চুনাপাথরের পাত্রের পাশাপাশি আড়াই মিটার দীর্ঘ একটি গ্রানাইটের সারকোফেগাস ও মানব কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। সারকোফেগাসটির পাশ থেকে প্লাস্টারের তৈরি একটি স্ফিংক্সের ভগ্নাংশও পাওয়া গেছে।
কয়েকটি মরদেহের মুখে চারটি স্বর্ণখণ্ডও পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, ‘গোল্ডেন টাং’ নামে পরিচিত এই রীতি সে সময়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ ছিল।
সরকারের আশা, নতুন এসব প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার মিসরের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে। গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই দেশটিতে ৬১ লাখ বিদেশি পর্যটক এসেছেন।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/