দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা আপাতত প্রশমিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাকিস্তানে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজার এবং শেয়ারবাজারে বিদেশি অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী না হলেও অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বৈদেশিক খাত এখনও দুর্বল থাকায় ঋণ পরিশোধ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তাকে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ও আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হচ্ছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হলেও বর্তমান অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দূরে রাখার জন্য যথেষ্ট। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সংকট এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি পাকিস্তানের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পাকিস্তানে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ২৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দেশীয় বন্ড বাজার থেকে নিট ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রত্যাহার হয়েছে এবং মোট বহিঃপ্রবাহ ২০০ কোটিরও বেশি ডলারে পৌঁছেছে।
পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের ইতিবাচক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সফলতা আসেনি। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বিপরীতে এ সময়ে ১০০ কোটিরও বেশি ডলার প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও অর্থবাজার বিশেষজ্ঞ এস. এস. ইকবাল বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও পাকিস্তানের বিনিয়োগ ঝুঁকি এখনও অনেক বেশি। চলতি অর্থবছরে দেশটি রেমিট্যান্স থেকে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছে, যা বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাকিস্তানকে ২৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক ঋণ ও অন্যান্য দায় পরিশোধ করতে হবে। একই সময়ে বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আরেক বিশ্লেষক বলেন, পাকিস্তান সরাসরি উপসাগরীয় সংঘাতে জড়িত না থাকলেও সাম্প্রতিক শান্তি উদ্যোগে দেশটির সম্পৃক্ততা এ অঞ্চলে তার কৌশলগত গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তবে শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পাকিস্তানকেও বহন করতে হতে পারে।
অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদের মতে, ইরান, সৌদি আরব, ওমান ও কাতারের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শান্তি প্রক্রিয়া সফল হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট ৭০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তান সফর করলেও দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এ সফরের পর ইরান-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য গতি আসতে পারে।
এমএস/