দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। দেশটির বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে গেলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দানা সার এলাকা অতিক্রম করে বাসটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় প্রবেশ করার পরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রশাসন।
এর আগে ভোরে যাত্রীবাহী বাসটি বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশাওয়ারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দুর্গম পাহাড়ি ‘দানা সার’ এলাকা অতিক্রম করে খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় প্রবেশ করার পরপরই চালক নিয়ন্ত্রণ হারান।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি বিপজ্জনক বাঁক অতিক্রম করার সময় বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় এটি সড়ক থেকে ছিটকে সরাসরি পাথুরে গভীর খাদে পড়ে যায়।
শেরানি জেলার ডেপুটি কমিশনার হযরত ওয়ালি কাকার জানান, বাসটি কোয়েটা থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে পথিমধ্যে অন্য একটি বাস বিকল হয়ে পড়ায় সেই বাসের যাত্রীরাও এই বাসটিতে আরোহণ করেন।
খাইবার পাখতুনখোয়া উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’- এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালকসহ মোট ৪৮ জন আরোহী ছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং তীব্র গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি এত বেশি মারাত্মক রূপ নেয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শেরানি ও ডেরা ইসমাইল খান জেলা প্রশাসন, রেসকিউ ১১২২, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আহত ৮ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে ঝোব জেলা সদর হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেছেন। আহতদের চিকিৎসার্থে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
কেএম