দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফ্রিকায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মহাদেশটির অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাস সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ও পরীক্ষিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৭৭ জন।
এ ছাড়া উগান্ডায়ও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভাইরাসটি দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডিআর কঙ্গোতে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ড্যামিয়েন মামা বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অন্যথায় এটি পুরো অঞ্চল, এমনকি আফ্রিকার জন্যও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংকটে পরিণত হতে পারে।
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতিতে সংক্রমণ যদি কেবল ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে শুধু ডিআর কঙ্গোরই প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ভাইরাসটি যদি রুয়ান্ডা ও অ্যাঙ্গোলাসহ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সময়ে ইরান সংকটের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকে, তাহলে আফ্রিকার অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষ চাকরি হারাতে পারেন।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ ইতুরি প্রদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের কারণে নিরাপদ দাফন কার্যক্রম পরিচালনায়ও ত্রাণকর্মীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে ডিআর কঙ্গো সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধী দলগুলো এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে।
এমএস/