দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সম্পর্কিত ব্যবসা থেকে ১০০ কোটির (১ বিলিয়ন) বেশি ডলার আয় করেছেন। ২০২৫ সালের বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে উঠে এসেছে এই তথ্য।
৯২৭ পৃষ্ঠার ওই আর্থিক প্রতিবেদনে ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগে চালু করা তার ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি বাবদ আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যদিও বাজারে আসার পর থেকে কয়েনটির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ ছাড়া তার দুই ছেলে ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে আয় হয়েছে ৫০ কোটির বেশি ডলার।
ক্রিপ্টোর পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট, ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য এবং অন্যান্য ব্যবসা থেকেও কয়েক কোটি ডলার আয় করেছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন না।
২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প ৬০ কোটির বেশি ডলার আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন। এবার সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে ১০০ কোটি ডলার।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন। তার ভাষ্য, ‘প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না।’
একসময় ট্রাম্প নিজেই ক্রিপ্টোকারেন্সির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘বিপর্যয়ের অপেক্ষায় থাকা একটি ব্যবস্থা’ বলেছিলেন। তবে সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী বলছে, এখন তার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসই ক্রিপ্টোকারেন্সি।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকেও বড় অঙ্কের আয় করেছেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ ছাড়া নিউ জার্সির বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও তিন কোটির বেশি ডলার করে আয় হয়েছে।
ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ি, বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটার বিক্রি থেকেও মিলিয়ন ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন তিনি। শুধু ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকেই তার আয় হয়েছে ৪৭ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তার জীবনভিত্তিক তথ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে তিনি আয় করেছেন ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এছাড়া এনএফটি বিক্রি করে আরও ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন আইনি নিষ্পত্তি থেকেও ট্রাম্প কয়েক কোটি ডলার পেয়েছেন। এর মধ্যে এবিসির সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, সিবিএস থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মেটা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ইউটিউব থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং এক্স থেকে ৮০ লাখ ডলার পেয়েছেন।
তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব অর্থের বেশিরভাগই ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি এবং ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/