দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পারস্য উপসাগরের মুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক তিন দিনে প্রণালিটি ঘিরে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ইরান ওই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইরান দাবি করছে, নির্ধারিত রুটে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ ওমান উপকূল ঘেঁষে বিকল্প রুট ব্যবহার করছে, যা জলপথে ইরানের প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারিটাইম বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৮টি জাহাজ ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং ৪৫টি জাহাজ বের হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জাহাজ উপসাগর ত্যাগের সময় ওমান ঘেঁষা দক্ষিণ রুট ব্যবহার করেছে।
শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরে বড় আকারের তেলবাহী জাহাজগুলো জ্বালানি নিয়ে প্রণালি অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরে একটি কার্গো জাহাজে হামলার পর ওই রুট ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ করিডর দিয়ে চলাচল বেড়ে যাওয়া মূলত সামরিক মাইন অপসারণ কার্যক্রমের ফলে ধীরে ধীরে নিরাপদ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়, পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা বাড়ার প্রতিফলন।
তবে বৃহস্পতিবারের হামলা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ২৫ জুন দক্ষিণ রুটে চলাচলকারী একাধিক ট্যাংকারকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার পর থেকে জাহাজ চলাচল কিছুটা কমে গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী রোববার এক বিবৃতিতে দাবি করে, ইস্তাম্বুল সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্রানজিট ও চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: সিএনএন
/অ