দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের একটি ক্যাম্পে বোমা ও বন্দুক হামলায় তিন আধাসামরিক সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানি তালেবানের সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরারের সদস্যরা করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকার রেঞ্জার্স ক্যাম্পের প্রবেশপথে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলটি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কার্যালয়ের কাছাকাছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বখশ বলেন, তিনি পাশের একটি মসজিদে নামাজ পড়ার সময় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হয়েছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি চারদিকে ধোঁয়া, এরপরই শুরু হয় গোলাগুলি।’ তার ভাষ্য, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলেছে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে। এছাড়া একজন আফগান নাগরিককে জীবিত আটক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এ হামলার জেরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। ইসলামাবাদ কাবুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। যদিও আফগান তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে করাচিতে একটি চীনা প্রতিনিধিদলকে বহনকারী গাড়িবহরে হামলার পর এটিই শহরটিতে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে হামলার ঘটনা কমে এলেও দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আবারও নগরাঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/