দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান না নিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে হামলার একদিন পর শুক্রবার এ অবস্থান জানায় ইরান। এতে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় ছয়টি দেশের যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের ইরানের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘অননুমোদিত’ পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা তিনটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে জাহাজগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে প্রায় চার মাস পর আবারও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নতুন করে সংকট তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ, শর্তহীন ও টোলমুক্ত নৌ-চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমানের হাতেই থাকা উচিত।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতিও উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর স্থিতিশীলতা দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।’
এদিকে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এভার লাভলি’ নামের একটি জাহাজ ওমান উপকূলের কাছে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং পরে জাহাজটি যাত্রা অব্যাহত রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জাহাজটিতে ইরান হামলা চালিয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবানন ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এসব বিষয় নিয়ে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় স্থায়ী সমঝোতার চেষ্টা চলবে।
এদিকে ওমান উপকূলে সর্বশেষ ঘটনার পর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়াও জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি ত্যাগ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/