দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে প্রথম দিনের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে। তবে দুই পক্ষের আলোচনায় যেমন অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে স্পষ্ট মতবিরোধও রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে আলোচনার মূল লক্ষ্য হিসেবে দুই দেশ একটি নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার ভিত্তিতে এখন নিয়মিত সংলাপ চলছে।
হরমুজ প্রণালিতে যোগাযোগ চ্যানেল
দুই পক্ষই হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে দুর্ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখার চেষ্টা চলছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। প্রণালিটি দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ ব্যবহারে ভিন্ন অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে আটকে থাকা বড় পরিমাণ তেল বিক্রি সম্ভব হবে। তবে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কোনো শর্তের অধীনে নয়, বরং স্বাধীনভাবে তারা তাদের অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যদি কোনো সম্পদ মুক্ত করা হয়, তা খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ব্যবহৃত হবে এবং নির্দিষ্টভাবে মার্কিন সরবরাহকারীদের মাধ্যমেই তা কিনতে হবে। ইরান অবশ্য এ শর্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে দ্বন্দ্ব
সবচেয়ে বড় মতবিরোধ দেখা দিয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ)- পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে বলেও দাবি ওয়াশিংটনের।
কিন্তু ইরান স্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করেছে। তেহরান বলছে, এখনো আইএইএ পরিদর্শন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং কোনো সময়সূচিও নির্ধারিত হয়নি।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশ সীমিত করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রও ওই সংঘাতে সরাসরি হামলা চালিয়ে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অমীমাংসিত প্রশ্ন
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরানকে সর্বোচ্চ ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ইরান আবার উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ শুরু করে, যা এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তর করুক। তবে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলছে, এই বিষয়টি তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত।
আলোচনা চলছে, অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেও মূল ইস্যুগুলো—পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ সম্পদ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—এখনো অমীমাংসিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্ন অবস্থানই চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিকে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পথে ঠেলে দিয়েছে।
/অ