দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত বছরের নির্বাচনী সময়পর্বে ছয় মাসে ৭০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত ৭০২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।
প্রতিবেদনটি সেই ছয় মাসের সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যখন পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থান ঘটানো সামরিক জান্তা নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়। তবে বিরোধী প্রধান দলগুলোকে বাদ দেওয়ায় ওই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে ‘প্রহসন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় লাখো মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে হাজারো মানুষ নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বড় অংশ এখনো সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিমান হামলা বেসামরিক হতাহতের প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষভাবে সাগাইং অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১৯১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৬০ জন নারী ও ৩০ জন শিশু রয়েছে।
প্রতিবেদনে অক্টোবর মাসের এক হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে চাউং-উ এলাকায় স্কুলের সামনে জমায়েত হওয়া মানুষের ওপর গোলাবর্ষণে ২৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে চারজন শিশু ছিল।
এছাড়া ডিসেম্বর মাসে সাগাইংয়ের তাবায়িনে একটি চা দোকানে বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, বাধ্যতামূলক নিয়োগ, হত্যা, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং যৌন সহিংসতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক বলেন, মিয়ানমারের জনগণ ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত ভোগান্তির শিকার হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সুরক্ষা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
সামরিক বাহিনী ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করে অং সান সু চি-র নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে। পরে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/