দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনায় লেবানন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেলেও আলোচনার টেবিলে নেই লেবানন, ইসরায়েল কিংবা হিজবুল্লাহ। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, পাকিস্তান ও ইরানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে লেবাননের সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে, যা নতুন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইরান আলোচনায় লেবাননকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারার আলোকে দেশটি লেবাননে সব ধরনের সামরিক সংঘাত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে।
শুক্রবার লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণ বিলম্বিত করে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে শনিবার আবারও সংঘাত শুরু হলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সংঘাতকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার বাইরে রাখতে চাইলেও তেহরানের আলোচকরা দুটি বিষয়কে একসঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং সপ্তাহান্তে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পরও দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।
সমঝোতা স্বাক্ষরের পর গত কয়েক দিনে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইরানের প্রধান আলোচকও বলেছেন, আলোচনায় তিনি সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উত্থাপন করবেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ লেবানন ইস্যুতে ইরানের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, লেবাননের সংকটে ইরানের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া।
তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান, আর লেবানন ও ইসরায়েল নিজেদের সংঘাত নিয়ে আলোচনার বাইরে অবস্থান করছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই সুইজারল্যান্ডের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিএনএন
/অ