দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল তিমির কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত এই স্থানে পাওয়া জীবাশ্মের বয়স ৫৩ লাখ বছর পর্যন্ত হওয়ায় বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
সমুদ্রতলের উঁচু-নিচু পর্বতমালা ও খাদসমৃদ্ধ ডায়ামান্টিনা ভাঙন অঞ্চলে কবরস্থানটির অবস্থান। চীন, ইতালি ও নিউজিল্যান্ডের গবেষকদের একটি দল এটি আবিষ্কার করেছে।
বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এই পানির নিচের কবরস্থান অসংখ্য জীব ও প্রাণীতে পরিপূর্ণ, যাদের মধ্যে কিছু প্রজাতি বিজ্ঞানজগতের জন্য সম্পূর্ণ নতুন হতে পারে।
গবেষণার অন্যতম লেখক চীনা বিজ্ঞান একাডেমির শিয়াওতং পেং বলেন, ‘এত বড় পরিসরের একটি কবরস্থান আবিষ্কার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। এর বিস্তৃতি, গভীরতা এবং বয়সের পরিসর আমাদের কল্পনারও বাইরে।’
গবেষকরা ওই এলাকায় ৩২ বার ডুব অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা ৪৮৫টি তিমির জীবাশ্মস্থান ও সক্রিয় তিমির দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। অভিযানে একটি বিলুপ্ত তিমির সম্পূর্ণ কঙ্কালসহ বহু মূল্যবান নিদর্শনের সন্ধান মেলে।
আবিষ্কৃত জীবাশ্মগুলোর মধ্যে ৫৩ লাখ বছর পুরোনো ঠোঁটযুক্ত তিমি প্রজাতি প্টেরোসেটাস বেঙ্গুয়ালাইয়ের একটি জীবাশ্মমাথাও রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫ মিটার দীর্ঘ একটি অ্যান্টার্কটিক মিনকে তিমির মৃতদেহ ছিল সবচেয়ে বড় আবিষ্কার।
গবেষকরা নতুন একটি প্রজাতিরও সন্ধান পেয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে প্টেরোসেটাস ডায়ামান্টিনাই।
তিমির দেহাবশেষ ঘিরে গড়ে ওঠা জীববৈচিত্র্যের মধ্যে জেলিফিশ, কৃমি এবং খোলসধারী ক্ষুদ্র প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ক্যালভার্ট সামুদ্রিক জাদুঘরের গবেষক স্টিফেন জে. গডফ্রে নেচারে প্রকাশিত মন্তব্যে বলেন, ‘এত বিশাল জীবাশ্ম কবরস্থানের সন্ধান সত্যিই অনন্য একটি আবিষ্কার। যদিও এলাকাটি সহজে পৌঁছানোর মতো নয়, তবুও সেখানে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।’ৎ
তিনি আরও বলেন, ‘এই গবেষণা ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিবেশে আরও গভীর সমুদ্র অভিযানে বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করবে।’
/অ