দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যেখানে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বিদ্রোহীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং সামরিক জান্তা কিছু এলাকায় আবারও অবস্থান শক্তিশালী করছে।
জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ি এলাকায় বিদ্রোহী ঘাঁটিতে থাকা চার তরুণ জানান, তারা কেউই স্বেচ্ছায় যুদ্ধে যোগ দেননি। একজনকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, আরেকজনকে রাতের ক্যারাওকে থেকে ফেরার সময় আটক করা হয়। আরেকজন বন বিভাগের কর্মী ছিলেন বলে জানান, এবং চতুর্থজনের দাবি তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের নামমাত্র সময় শেষে তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় এবং সেখানে তারা কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরে সুযোগ পেয়ে তারা পালিয়ে বিদ্রোহী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) হাতে ধরা পড়ে।
বিদ্রোহী কমান্ডারদের মতে, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ জান্তার জন্য জনবল বাড়িয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী করেছে। তবে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে অস্ত্র, অর্থ ও সরঞ্জামের ঘাটতি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জান্তা বাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা পুনরায় দখলের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ড্রোন ও বিমান শক্তির ব্যবহারও বেড়েছে বলে বিদ্রোহী কমান্ডাররা অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে সীমিত সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও বিদ্রোহীরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও অনেক জায়গায় তারা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
যুদ্ধের মাঝেই আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা চলছে অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে, যেখানে ওষুধ ও সরঞ্জামের ঘাটতি থাকলেও চিকিৎসকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এক আহত যোদ্ধা জানান, তিনি আবারও যুদ্ধে ফিরতে চান এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে নতুন প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথাও শোনা গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রেই একটি শিশু জন্মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যোদ্ধা বলেন, তারা চান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক মিয়ানমার দেখুক।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/