দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক অধিকার ও আইনসভায় প্রতিনিধিত্বের দাবিতে নির্ধারিত সমাবেশের আগে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্যসহ বহু মানুষ।
সোমবার কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবারের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে রোববার সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়া তা বাতিল করা যাবে না।
এই রায়ের বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর রাজনৈতিক অধিকার এবং শরণার্থী আসন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। সংগঠনটির দাবি, এসব আসনের কারণে শরণার্থীরা অঞ্চলের রাজনীতিতে অসম প্রভাব বিস্তার করছে।
পুঞ্চ অঞ্চলের কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে জানান, ‘দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে চার পুলিশ সদস্য ও এক পথচারী নিহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হয়।’
পুলিশপ্রধান লিয়াকত মালিক জানান, সংঘর্ষে ২৩ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জেএএসির সশস্ত্র সমর্থকেরা রাওয়ালাকোট শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায় এবং পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঘেরাও করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
তবে জেএএসি নেতা শওকত নওয়াজ মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, ‘রাওয়ালাকোটে রাষ্ট্র আমাদের মানুষের ওপর গণহত্যা শুরু করেছে।’ তিনি ৯ জুনের সমাবেশে অংশ নিতে সংগঠনের সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে শুক্রবার আঞ্চলিক সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসিকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ৯ জুনের আগে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অঞ্চল ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
গত দুই বছরে আটা ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জেএএসির নেতৃত্বে হওয়া একাধিক বিক্ষোভও সহিংসতায় রূপ নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
পুঞ্চ অঞ্চলের কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বলেন, ‘এটিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে জেএএসি নেতৃত্ব জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোলবোমা ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়।
এমএস/