দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে বিরল রাষ্ট্রীয় সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর কেবল বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করার জন্য নয়; বরং উত্তর কোরিয়ার ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব ধরে রাখার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ।
সফর উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তাজুড়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা হাতে হাজারো মানুষ শি জিনপিংকে স্বাগত জানায়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় কিম ইল সুং স্কয়ারে সামরিক গার্ড অব অনারও প্রদান করা হয়। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘অটুট’ বলে উল্লেখ করা হয়।
শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা যায়। ২০২৪ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশ খুব সীমিত আয়োজন করে। একই সময়ে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা চীনকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে দেশটি জ্বালানি ও অন্যান্য সহায়তা পাচ্ছে।
গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin–এর সঙ্গে বৈঠকের পর শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরকে বেইজিংয়ের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন চায় না যে মস্কো পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান প্রভাবশালী মিত্রে পরিণত হোক। কারণ এতে উত্তর কোরিয়ার ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কমে যেতে পারে।
চীনের জন্য উত্তর কোরিয়া একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিপরীতে একটি কৌশলগত বাফার, অন্যদিকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। ফলে বেইজিং উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি হারাতেও চায় না, আবার তার কর্মকাণ্ডের কারণে সংকটে জড়াতেও আগ্রহী নয়।
অন্যদিকে কিম জং উনের জন্যও চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত বছর উত্তর কোরিয়ায় চীনের রপ্তানি প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছর দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে এখনো পারস্পরিক অবিশ্বাস রয়েছে। তবে কৌশলগত প্রয়োজনের কারণে বেইজিং ও পিয়ংইয়ং একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শি জিনপিংয়ের এই সফর বন্ধুত্বের চেয়ে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমএস/