দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুই বছরেরও বেশি সময় পর আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এদিন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেবে, ফলে পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে দিনের বেলায় অন্ধকার নেমে আসবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে এবং তার ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে। এতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে সূর্যকে সম্পূর্ণ আড়াল হতে দেখা যায়।
কোথায় দেখা যাবে?
এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে। এসব অঞ্চলে ‘টোটালিটি’ বা সূর্য সম্পূর্ণ আড়াল হওয়ার মুহূর্তে দিনের আকাশ সাময়িকভাবে অন্ধকার হয়ে যাবে।
এ ছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের কেবল একটি অংশ চাঁদের আড়ালে যাবে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বশেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে এমন ঘটনা শেষ দেখা যায় ১৯০৫ সালে।
গ্রিনল্যান্ডে দর্শকরা দুই মিনিটেরও বেশি সময় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন। অন্যদিকে উত্তর স্পেনে এ সময়সীমা হবে প্রায় ২০ সেকেন্ড।
পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে?
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। সেটি দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ইয়েমেন থেকে দেখা যাবে।
কীভাবে নিরাপদে দেখবেন?
বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া কখনোই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। শুধুমাত্র পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়, যখন সূর্য পুরোপুরি আড়াল হয়ে যায়, তখন খালি চোখে দেখা যায়।
সূর্যের আলো ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্রহণ-চশমা বা সোলার ভিউয়ার ব্যবহার করতে হবে।
সাধারণ সানগ্লাস কোনোভাবেই গ্রহণ-চশমার বিকল্প নয়। ছেঁড়া, আঁচড়যুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রহণ-চশমাও ব্যবহার করা উচিত নয়।
নাসা সতর্ক করেছে, গ্রহণ-চশমা পরে টেলিস্কোপ, দূরবীন বা ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানোও বিপজ্জনক। এতে সূর্যের তীব্র আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের আগ্রহ কেন?
সূর্যগ্রহণ বিজ্ঞানীদের জন্য সূর্যের বহিরাবরণ বা করোনা নিয়ে গবেষণার বিশেষ সুযোগ তৈরি করে।
এবারের গ্রহণে বিজ্ঞানীরা উচ্চ-উড্ডয়নক্ষম বেলুন ব্যবহার করে ছবি সংগ্রহ করবেন। তাদের লক্ষ্য ১৯১৯ সালের ঐতিহাসিক সূর্যগ্রহণ পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করা, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছিল আইনস্টেইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞানবিষয়ক পরিচালকবলেন, “পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এমন এক বিরল মুহূর্ত, যখন লাখো মানুষ একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ও কৌতূহল অনুভব করতে পারে। এটি আমাদের মহাবিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং অনুসন্ধান ও জ্ঞান অর্জনের মানবিক আকাঙ্ক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: সিএনএন
কে