দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে তা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক কৌশলগত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব নতুন এক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক দেশগুলো এবং কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে যেসব দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তারাও দূরপাল্লার প্রচলিত হামলা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ার বৃহত্তম বার্ষিক প্রতিরক্ষা সম্মেলন ‘শাংরি-লা সংলাপ’ সামনে রেখে এই মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়। আগামী ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলা এই অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা প্রধান, কূটনীতিক, বিশ্লেষক ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষই ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে পারে। চীনের লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দূরে রাখা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার চেষ্টা করবে।
আইআইএসএস সতর্ক করে বলেছে, তাইওয়ান বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ধরনের সংঘাত দ্রুত পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই যে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে প্রয়োজনীয় সীমারেখা বা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা ও নজরদারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইআইএসএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানিয়েল স্যালিসবারি বলেন, সাম্প্রতিক শি জিনপিং-ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকেও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ জটিল অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চলেছে। কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল, কারণ দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বড় অংশ গোপন রাখা হয়।
ড্যানিয়েল স্যালিসবারি আরও বলেন, এই ধরনের আলোচনার সংস্কৃতি বর্তমানে নেই বললেই চলে। ফলে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির সুযোগও অনেক কম।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৭০০টি এবং চীনের রয়েছে প্রায় ৬২০টি।
/অ