দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এটি গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে চীনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শানসি প্রদেশের কিনইউয়ান কাউন্টির চাংঝি শহরে অবস্থিত লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার প্রায় একদিন পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
খনির ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে খনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া ভূগর্ভস্থ মানচিত্রের সঙ্গে প্রকৃত অবস্থার মিল না থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালানোর বদলে উদ্ধারকারীদের পুরো টানেলজুড়ে অনুসন্ধান করতে হচ্ছে।
বেইজিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, খনির শ্রমিকদের ব্যক্তিগত জিপিএস ট্র্যাকার বহনের নিয়ম থাকলেও বিস্ফোরণের সময় কয়েকজন শ্রমিকের কাছে তা ছিল না।
খনিতে বিস্ফোরণের সময় প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক ভূগর্ভে কাজ করছিলেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত ২০১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সিসিটিভি জানায়, আহত ১২৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, খনির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক ওয়াং ইয়ং সিসিটিভিকে জানান, বিস্ফোরণের আগে তিনি ধোঁয়া দেখতে পান এবং সালফারের তীব্র গন্ধ পান। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে দৌড়াতে বলেছিলাম। দৌড়ানোর সময় দেখলাম ধোঁয়ায় অনেকেই পড়ে যাচ্ছেন। পরে আমিও অজ্ঞান হয়ে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে পাশে থাকা অন্যদের জাগিয়ে আমরা একসঙ্গে খনি থেকে বেরিয়ে আসি।’
ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম।
চীনে কয়লাখনি দুর্ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও দেশটিতে মাঝেমধ্যেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ায় একটি খনি ধসে ৫৩ জন নিহত হন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের জ্বালানি ব্যবস্থায় এখনও কয়লার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট জ্বালানি ব্যবহারের অর্ধেকের বেশি আসে কয়লা থেকে। শানসি প্রদেশ একাই চীনের মোট কয়লা উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশের বেশি সরবরাহ করে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/