দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দেশটি ফের ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে।
চারটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের গতি প্রাথমিক ধারণার তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বোমা হামলা শুরু করলে ইরান এখনো আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য বড় হুমকি হয়ে থাকতে পারে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ড্রোন হামলার পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে। তিনি বলেন, পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার নির্ধারিত সব সময়সীমাকেই ছাড়িয়ে গেছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে ড্রোন হামলার সক্ষমতা। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংঘাত আবার শুরু হলে ইরান ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার হুমকি দিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও চীনের সহায়তা যেমন আছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রত্যাশিত মাত্রার ক্ষতি না হওয়াও একটি বড় কারণ।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সংঘাত চলাকালেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। যদিও চলমান মার্কিন অবরোধের কারণে সেই কার্যক্রম কিছুটা সীমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এমন দাবি ‘তথ্যভিত্তিক নয়’।
সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে। অর্থাৎ সামরিক উৎপাদন সক্ষমতার পুনর্গঠন পুরোপুরি শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না।
এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অক্ষত ছিল। সাম্প্রতিক আরেকটি প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশে উন্নীত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হাজার হাজার ড্রোন এখনো সক্রিয় রয়েছে, যা দেশটির মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক।
এছাড়া ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশও অক্ষত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার মঙ্গলবার এক শুনানিতে দাবি করেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা হয়েছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র বলেছে, কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির ক্ষতি দেশটির পুনর্গঠন সক্ষমতাকে কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্পের কিছু অংশ এখনো অক্ষত থাকায় নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত পুনর্গঠন করা সম্ভব হতে পারে।
/অ