দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেইজিং ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার কয়েকদিন পর তিনি এ মন্তব্য করলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছেন না। এটা একটি সুন্দর প্রতিশ্রুতি। আমি তার কথায় বিশ্বাস রাখছি।’
তিনি আরও বলেন, শি জিনপিংও তার মতো হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চান।
গত সপ্তাহে তিন দিনের চীন সফর শেষে ট্রাম্প কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করলেও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে বড় কোনো অগ্রগতির কথা জানাননি। এর মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চীন সফরে গেছেন। দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণে বেইজিং-মস্কোর ঘনিষ্ঠতা ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। রাশিয়া বহু বছর ধরেই ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে।
চীন যাতে ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে—এমন আশা ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বক্তব্যে উঠে এলেও, একইসঙ্গে তারা এটাও বলেছিলেন যে যুদ্ধ ইস্যু শি-ট্রাম্প বৈঠকের প্রধান আলোচ্য নয়। তবে বৈঠকের পর এখন পর্যন্ত চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ‘স্থগিত’ করেছেন। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে তেহরান নতুন ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। যদিও পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আজ হামলার সিদ্ধান্ত নিতে আমি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।’ তবে তিনি ইরানকে আলোচনায় ফেরার জন্য আরও কয়েকদিন সময় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘হতে পারে শুক্রবার, শনিবার, রবিবার কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে সীমিত সময়ের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের হয়তো আবারও বড় ধরনের হামলা চালাতে হতে পারে। এখনো নিশ্চিত নই।’
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ট্রাম্প আলোচনার জন্য নয়, বরং ইরানের পাল্টা জবাবের ভয় থেকেই হামলা স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে ‘কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া ও ঐক্যবদ্ধ জাতির মুখোমুখি হতে হবে।’
আজিজির ভাষায়, ‘শক্তিই একমাত্র ভাষা, যা ট্রাম্প বোঝেন।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/