দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপাল্লার ড্রোন হামলার সক্ষমতা বাড়িয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে ইউক্রেন। তেল শোধনাগারে আগুন লাগা থেকে শুরু করে স্থল অভিযানের গতি কমে যাওয়া—সবকিছুর পেছনে ইউক্রেনের বাড়তে থাকা ড্রোন সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেনীয় কমান্ডার, ড্রোন বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধের সামনের সারি থেকে কয়েক ডজন কিলোমিটার পেছনে থাকা রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে এসব হামলা দূরপাল্লার ড্রোনের জন্য রুশ তেল ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার পথও সহজ করছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ‘মিডল স্ট্রাইক’ বা মধ্যপাল্লার হামলায় আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণত যুদ্ধরেখা থেকে ৩০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়।
এর মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার রাডার, স্বল্প ও মধ্যপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বড় সামরিক যানবাহনে হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।
ইউক্রেনের আনম্যানড সিস্টেমস ফোর্সেসের কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি বলেন, ‘মধ্যপাল্লার হামলার ভূমিকা এখন নির্ধারক হয়ে উঠেছে।’ তিনি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হওয়ায় দূরপাল্লার ড্রোন এখন আরও সহজে রাশিয়ার ভেতরের তেল স্থাপনায় আঘাত হানতে পারছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা এককভাবে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে না দিলেও এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধের গতিপথে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। গত মাসে বন্দর ও তেল শোধনাগারে হামলার কারণে রাশিয়া তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয় এবং ইউরোপে রাশিয়ার একমাত্র অবশিষ্ট পাইপলাইনে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্চের তুলনায় এ মাসে মধ্যপাল্লার হামলার সংখ্যা দ্বিগুণ এবং ফেব্রুয়ারির তুলনায় চারগুণ বেড়েছে।
ইউক্রেনের ৪১৪তম পৃথক আনম্যানড সিস্টেমস ব্রিগেডের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ‘কুস্তো’ বলেন, গত শরতের পর থেকে ইউক্রেনের মধ্যপাল্লার হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন ড্রোন প্ল্যাটফর্ম, বেশি সংখ্যক ইউনিট ও বৈচিত্র্যময় প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে হামলার কার্যকারিতা বেড়েছে।
তিনি জানান, তাদের ইউনিট মূলত যুদ্ধরেখা থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। রুশ রাডার ও ‘বুক’, ‘তোর’ এবং ‘প্যান্টসির’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এছাড়া বড় সামরিক যান ও রসদ পরিবহনও হামলার তালিকায় রয়েছে।
ব্রোভদি দাবি করেন, চলতি বছরে তার বাহিনী রুশ-অধিকৃত এলাকায় অন্তত ১২৯টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। যদিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেন ইতোমধ্যে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর শহর তুয়াপসের একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রিয়াজান তেল শোধনাগারেও হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব হামলার কারণে রাশিয়াকে যুদ্ধরেখা থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিতে হচ্ছে, ফলে ইউক্রেন আরও গভীরে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে গোলাবারুদ ডিপো, জ্বালানি মজুত কেন্দ্র, কমান্ড পোস্ট ও সরবরাহ যানবাহনও এখন সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠছে।
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের যুদ্ধ পরিচালনা জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ইউক্রেন বাধ্য হয়েই মধ্যপাল্লার সক্ষমতা দ্রুত উন্নত করেছে। কারণ রাশিয়া একই ধরনের হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল।
তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ইউক্রেন দ্রুত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ঘটাচ্ছে এবং বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক ব্ল্যাক বার্ড গ্রুপের বিশ্লেষক এমিল কাস্তেহেলমি বলেন, মধ্যপাল্লার হামলা হয়তো একাই যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করবে না, তবে এটি রাশিয়ার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না আমরা এখনো এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা দেখেছি।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/