দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের হামলার জবাবে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিতে সৌদিআরব ও কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে আরব আমিরাত। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক ফোনালাপ করেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানও ছিলেন।
এর পরপরই তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২১ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আমিরাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান ইস্যুতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের বদলে নতুন করে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরে সৌদি আরব ও আমিরাত আলাদাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি হামলা ছিল তুলনামূলক সীমিত। একই সময় দেশটি মিত্র পাকিস্তানের সহায়তায় মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায়ও যুক্ত হয়।
অন্যদিকে, আমিরাত ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে ইরানের লাভান দ্বীপে হামলা চালানো হয়, যাতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং স্থাপনাটির কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের তুলনায় আমিরাত ইরানের ঝুঁকির মুখে বেশি রয়েছে। কারণ সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী বিকল্প তেল পাইপলাইন থাকলেও আমিরাতের সে ধরনের সুবিধা সীমিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের ‘দুর্বল’ প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেছে আমিরাত। পরে অসন্তোষের জেরে মে মাসে ওপেক জোট থেকেও বেরিয়ে যায় দেশটি।
এদিকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করেছে আমিরাত। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দাবি করেন, ইরানের হামলা মোকাবিলায় ইসরাইল আমিরাতে আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা পাঠিয়েছে।
তবে যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আমিরাত সফর করেছেন বলে তার কার্যালয় দাবি করলেও আবুধাবি তা অস্বীকার করেছে।
এমএস/