দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি জোরদারে গ্রেট নিকোবর দ্বীপে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে ভারত। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অংশ এই দ্বীপটি মালাক্কা প্রণালীর পশ্চিম প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিশ্ব বাণিজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি পণ্য মালাক্কা প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে চীনের আমদানিকৃত জ্বালানি ও বাণিজ্যের বড় অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল উত্তেজনার পর হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিকল্প সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের পরিকল্পিত প্রকল্পে আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্স-শিপমেন্ট টার্মিনাল, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গ্যালাথিয়া উপসাগর এলাকায় আধুনিক টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান এয়ারস্ট্রিপ সম্প্রসারণের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানের কার্যক্রম বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন জেটি ও লজিস্টিক হাব ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পটির লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। পরিবেশগত আপত্তি খারিজ করে দেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার উষ্ণমণ্ডলীয় বনভূমির ওপর তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক প্রভাব মোকাবিলাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। চীন ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মিয়ানমারে বন্দর ও অবকাঠামো গড়ে ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। নিয়মিতভাবে চীনা সাবমেরিন ও নজরদারি জাহাজও এ অঞ্চলে চলাচল করছে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্শ পান্ট বলেন, ‘গ্রেট নিকোবরকে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করা ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে ভারত সমুদ্রপথ নজরদারি ও নৌ-অভিযানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’
ভারতের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার অরুন সাহগাল বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি কতটা বড়। তাই মালাক্কা প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিকোবরকে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।’
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মালাক্কা প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে গ্রেট নিকোবর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।
সূত্র: ডিফেন্স নিউজ
এমএস/