দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার স্যাটেলাইট ‘পাথফাইন্ডার’ তৈরি করছে বেঙ্গালুরুভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ পিক্সেলl। এতে সহযোগিতা করছে ভারতের এআই প্রতিষ্ঠান সারভাম এআই।
স্যাটেলাইটটির বিশেষত্ব হলো, এটি মহাকাশেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। ফলে বিপুল পরিমাণ কাঁচা তথ্য পৃথিবীতে পাঠানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে।
‘পাথফাইন্ডার’ মূলত ভারতের প্রথম ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার স্যাটেলাইট’। সাধারণ স্যাটেলাইটের মতো শুধু ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠানোর বদলে এতে থাকবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সিস্টেম ও এআই প্রসেসর। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে স্যাটেলাইটটি কক্ষপথেই তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে।
এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘স্পেস এজ কম্পিউটিং’। বর্তমানে অধিকাংশ স্যাটেলাইট সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের জন্য পৃথিবীতে পাঠায়। কিন্তু ‘পাথফাইন্ডার’ মহাকাশেই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে কেবল প্রয়োজনীয় ফলাফল পাঠাবে। এতে তথ্য বিশ্লেষণের গতি বাড়বে, ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমবে এবং স্যাটেলাইট পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি, জলবায়ু বিশ্লেষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, অবকাঠামো মানচিত্র তৈরি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্যাটেলাইটটি কক্ষপথ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শনাক্ত করে দ্রুত তথ্য পাঠাতে সক্ষম হবে।
পিক্সেল স্যাটেলাইটটির নকশা, নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে উন্নত হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং স্যাটেলাইট তৈরির জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, সর্বম এআই সরবরাহ করবে এআই মডেল ও অনবোর্ড ইনফারেন্স সিস্টেম, যা সরাসরি স্যাটেলাইটের মধ্যেই কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বিদেশি ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে ভারতকে আরও এগিয়ে নেবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে ‘পাথফাইন্ডার’ উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক মিশন হিসেবে কাজ করবে। মিশন সফল হলে ভবিষ্যতে মহাকাশে একাধিক অরবিটাল ডেটা সেন্টারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
সূত্র: দ্যা হিন্দু
এমএস/