দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১১ এপ্রিল) একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি ‘হরমুজে জাহাজ চলাচলের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ ইরান হরমুজে কোনো বাধা ছাড়া জাহাজ চলতে দেবে এমন শর্তে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দিচ্ছে মার্কিনিরা।
তবে জব্দকৃত সম্পদের মোট পরিমাণ কত, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি ইরানি সূত্রটি। পরে আরেকটি ইরানি সূত্র জানায়, কাতারের ব্যাংকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি অর্থ মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
এই ৬ বিলিয়ন ডলার মূলত ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এটি মুক্তির কথা থাকলেও পরবর্তীতে আবারও স্থগিত করা হয়। ওই সময় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলে হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলার পর অর্থটি পুনরায় আটকে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতেও এই অর্থ ইরানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না এবং ওয়াশিংটনের এটি পুরোপুরি স্থগিত রাখার অধিকার রয়েছে।
এই অর্থ এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রি থেকে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকে মুক্তির বিনিময়ে পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে ব্যবহার করা যাবে—খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য আমদানির জন্য নির্ধারিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তদারকিতে তা ব্যয় করা হবে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ