দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তার প্রতিনিধিদল শনিবার সকালে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। ঐতিহাসিক এই বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে।
এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের দুই সপ্তাহের বিরতির মধ্যে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এদিকে আজ শনিবার ইসলামাবাদের নূর খান এয়ার বেসে অবতরণের পর জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ইসহাক দার এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে শনিবার ভোরে ইরানের প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদে পৌঁছায়। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্তে অংশগ্রহণের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হলেও তা শেষ মুহূর্তে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারাও এই সফরে অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও রয়েছেন। প্রতিনিধি দলে অন্য আলোচকদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতি।
১৯৭৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে আলোচনার আগে থেকেই বেশ কিছু জটিলতা সামনে এসেছে। ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে জব্দ থাকা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দেওয়ার শর্ত দিয়েছে।
বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক অধিকার স্বীকৃতি, হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচল এবং জব্দ অর্থ ফেরতের দাবি তুলছে।
এছাড়া আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারস্পরিক ছাড়ের ধাপ নির্ধারণও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসবে। বিশ্লেষকদের মতে, এত বিস্তৃত এজেন্ডার কারণে প্রাথমিক দুই দিনের বৈঠকে বড় ধরনের অগ্রগতি আসার সম্ভাবনা কম। তবে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে বা উত্তেজনা কমাতে সীমিত কিছু সমঝোতা হতে পারে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, এই আলোচনা সফল করতে তার দেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি একে সংলাপের মাধ্যমে জটিল সমস্যার সমাধানের সুযোগ হিসেবে দেখলেও কাজটি যে কঠিন, তা স্বীকার করেছেন।
তথ্যসূত্র: ডন
/অ