দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। তার দেওয়া রাত ৮টার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা আসে। পাক সংবাদ এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই সাফল্যকে ‘পাকিস্তান একটি গোটা সভ্যতাকে রক্ষা করল’ বলে অভিহিত করেছে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং তাদের অনুরোধে আজ রাতে ইরানে পাঠানো ধ্বংসাত্মক শক্তি স্থগিত রাখছি। তবে শর্ত হলো, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানকে এখনই হরমুজ প্রণালি নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে। আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখতে রাজি। এটি দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সব সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছি এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছি। ইরান থেকে প্রাপ্ত ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি এবং প্রায় সব বিতর্কিত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।’
পাকিস্তানের প্রস্তাবে ছিল ট্রাম্পের হুমকি স্থগিত রাখা এবং দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এই সময়ে দুই পক্ষ যুদ্ধ বন্ধ রেখে বড় চুক্তির আলোচনার সুযোগ পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী শরিফ জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘স্থিরভাবে, শক্তভাবে এবং জোরালোভাবে’ এগিয়ে চলেছে। তিনি ট্রাম্পকে সময়সীমা বাড়ানোর সরাসরি অনুরোধও করেছিলেন।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মাঝেও মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। তেহরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সেতু, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার দায় স্বীকার করেছে। খারগ দ্বীপে প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল এবং আরাক ও মাহশাহরের শিল্প ক্ষেত্রেও আক্রমণ হয়েছে।
সংঘাতে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছে। আবাসিক এলাকা ও ধর্মীয় স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের গোটা সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইল।
এমএস/