দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের দুইটি ট্যাংকার জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস।
ট্যাংকার দুইটির নাম ‘পুষ্পক’ এবং ‘পরিমল’। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির মধ্যে এক টেলিফোনালাপের জেরেই এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার হরমুজ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালানো হয় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্বারা। এতে জাহাজটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তিনজন নাবিক নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাহাজটি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের কান্দলা বন্দরের দিকে আসছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এস. জয়শঙ্কর ও সৈয়দ আব্বাস আরাগচির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। হরমুজ প্রণালি আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বে যেসব তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, তার ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তেল রপ্তানি করে। হরমুজ প্রণালি ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা সম্ভব হতো না।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল এবং বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ১০টির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
এবার যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনো দেশের তেলবাহী ট্যাংকারকে দাপ্তরিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান।
এমএস/