দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার দ্বিতীয় ছেলে মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী এই কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতার বাবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনির মা, স্ত্রী ও এক বোনও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে হামলার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং বর্তমানে জীবিত আছেন।
ইরানের ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’, যারা দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে, তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ‘নির্ণায়ক ভোটের’ মাধ্যমে মুজতবা খামেনিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির জনগণকে ঐক্য বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
মুজতবা খামেনি কখনও নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মুখোমুখি হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আলী খামেনি প্রায় আট বছর প্রেসিডেন্ট থাকার পর ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মুজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসা ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় কট্টরপন্থীদের প্রভাব অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। এতে স্বল্পমেয়াদে কোনো সমঝোতা বা আলোচনার সম্ভাবনা কম থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি সাধারণত খুবই নীরব ও নিম্নপ্রোফাইল জীবনযাপন করেন। জনসমক্ষে খুব কমই বক্তৃতা বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন, ফলে অনেক ইরানি তার কণ্ঠও শোনেননি।
তবে প্রায় দুই দশক ধরে বিরোধীরা তাকে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ চলাকালে নির্বাচন কারচুপি এবং বিক্ষোভ দমনে আইআরজিসির বাসিজ বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
মুজতবা খামেনি মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা বা ‘হোজাতোলেসলাম’ মর্যাদার অধিকারী। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাধারণত আয়াতুল্লাহ মর্যাদার হন, তবে তার বাবা ১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসার সময়ও ওই মর্যাদা পাননি এবং পরে আইন সংশোধন করা হয়েছিল। একই ধরনের ব্যবস্থা মুজতবার ক্ষেত্রেও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র হামলার মধ্যে ইরানে তথ্য প্রবাহ সীমিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ফলে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কীভাবে ও কবে দেওয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/