দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সংঘাতের কারণে এই পথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েত মিলিয়ে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেল বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ১.৪ দিনের সমান।
সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদনকারী দেশগুলোতে তেলের মজুদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরাক ও কুয়েত তাদের কিছু তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই পথে হাঁটতে পারে।
উল্লেখ্য যে, গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। আজ সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু তেলক্ষেত্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানি বাহিনীর হামলায় সৌদি আরামকোর ‘রাস তানুরা’ শোধনাগার এবং কাতার এনার্জির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।
জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তেলের দাম বাড়লে শুধু যাতায়াত খরচ নয়, বরং হিটিং, খাদ্যদ্রব্য এবং আমদানিকৃত পণ্যের দামও ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি আবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববাসীকে দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যের জ্বালানি সংকটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সম্প্রতি কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত—যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং শিপিং রুটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—তা ‘বিশ্বের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে’।
সাদ আল-কাবি জানান, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত আগামী কয়েক সপ্তাহ চললে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যেকের জন্য জ্বালানি খরচ বেড়ে যাবে, পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে এবং কলকারখানাগুলো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে।’
এবি/