দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, দু’একটি পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের, আর তেল মিলছে সীমিত পরিসরে বা রেশনিং পদ্ধতিতে। সোমবার থেকেই জেলার বেশিরভাগ পাম্পে মেশিনগুলো দড়ি, ড্রাম ও কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা গেছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ট্রাক ও মাইক্রোবাস চালকরা।
আজ সকাল থেকে ‘ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন’সহ কয়েকটি পাম্পে তেল দেওয়া শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। পাম্প কর্তৃপক্ষ রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে, যেখানে মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, মাইক্রোবাসের জন্য ৩০০-৫০০ টাকা এবং ট্রাক বা পিকআপের জন্য ৩০০-৫০০ টাকার ডিজেল বরাদ্দ করা হচ্ছে।
সীমিত তেলের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাম্পগুলোতে সৃষ্টি হয় তপ্ত পরিস্থিতি ও দীর্ঘ সারি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েক স্থানে তেল নিতে আসা চালকদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
লালমনিরহাট জেলা শহরের বিনিময় ফিলিং স্টেশন, টুম্পা ও ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ কেন্দ্রই আজ সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। বিনিময় ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক রাব্বানী হোসেন (৩০) বলেন, ‘ঈদের দিন থেকেই অনেক পাম্প বন্ধ। কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ তেল বন্ধ করে দিলে আমরা যাব কোথায়। বাইক চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক আরিফুর রশীদ বলেন, ‘ঘণ্টাখানেক ধরে লাইনে অপেক্ষা করছি। এখনো লাইনের শেষের দিকে রয়েছি। শুনলাম এখানে তেল দিচ্ছে তাই এসেছি। কিন্তু যে অবস্থা দেখছি আমার গাড়ি পাম্পের কিনারায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে তেল শেষ হয়ে যাবে।’
একই পাম্পে তেল নিতে আসা এনজিওকর্মী সাফিউন বলেন, ‘প্রতিদিন ১০০-১৩০ কিলোমিটার পথ মোটরসাইকেল চালাতে হয়। অফিস তেল আছে কি না সেটা বুঝবে না। তেল তো পাওয়া যাচ্ছে না। তেল না পেলে চাকরি কীভাবে করবে। সরকারের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন তিনি। তেল সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।’
তাদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অজুহাতে মালিকরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। অনেক পাম্পে তেল থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না তেল। আর পাম্পগুলোতে প্রশাসনেরও নজরদারি নেই।
এদিকে পেট্রোল পাম্প গুলোতে গেল না মেলায় ভোগান্তিতে পড়েছে গণপরিবহনগুলোও। দ্রুত তেল সংকট সমাধানে সরকারের নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান তাদের।
তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাম্প মালিকরা। বিনিময়ে ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক তামিম প্রামাণিক জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম। তিনি বলেন, ‘আমার যেখানে ৯ হাজার লিটার প্রয়োজন, সেখানে রেশনে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ হাজার লিটার। ঈদের দিনই আমাদের স্টক শেষ হয়ে গেছে, তাই আমরা নিরুপায় হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছি।’
এদিকে ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের তেল মাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল আমাদের পাম্প বন্ধ ছিল। আজ সকাল থেকে আমরা রেশনিং পদ্ধতিতে দিচ্ছি। আমাদের স্টক ২ হাজার লিটার রয়েছে। তবে স্টকের তেল রাত ৮টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। পরে আমরা কি করবো বুঝতেছিনা। তেল না পেলে আমরা পাম্প বন্ধ রাখবো।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও) বিষয়টি তদারকি করছেন। তিনি বলেন, ‘পাম্পগুলোর হাউজে আসলেই তেলের মজুত নেই বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আশা করছি আগামী দু-একদিনের মধ্যে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।’