দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ওপর মার্কিন হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারকে ইসরায়েল থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট থাকাকালীন ইসরায়েল ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একইসঙ্গে ইসরায়েল ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই সতর্কবার্তা এলো।
আগামী সপ্তাহে আরও আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে দুটি ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’ (বিমানবাহী রণতরী দল) প্রস্তুত রেখেছেন। তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে আন্তরিক না হয়, তবে তিনি হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই সতর্কবার্তার পাশাপাশি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাসের কর্মীদের একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।
সেখানে যারা দেশ ছাড়তে চান তাদের ‘আজই’ চলে যান, সে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪ মিনিটে পাঠানো এক ইমেইলে তিনি কর্মীদের দ্রুত যেকোনো জায়গার ফ্লাইট বুক করার পরামর্শ দেন।
তিনি লিখেছেন, ‘এই পদক্ষেপের ফলে আজ বিমান টিকিটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হতে পারে। আপনাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছানো যায় এমন যেকোনো জায়গার টিকিট সংগ্রহ করা এবং দ্রুততম সময়ে এই দেশ ত্যাগ করা।’
ইসরায়েল ছাড়ার এই ডাক এমন এক সময়ে এলো যখন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি—যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী—ওয়াশিংটনে উড়ে গেছেন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার একটি শেষ চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে দেখা করে যুক্তি দেবেন যে, আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে যা ধৈর্য ধরার জন্য যথেষ্ট।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেনেভায় আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার এই সফর ইঙ্গিত দেয় যে, যারা সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বলছেন তাদের থামাতে তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকার ইঙ্গিত দিয়ে ইরানি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কঠোরতম দাবিগুলো থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আলোচনার পর কোনো বিবৃতি দেননি, যা পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
ধারণা করা হয়, প্রশাসনের ভেতর জেডি ভ্যান্সই সামরিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে বড় বিরোধী। আলবুসাইদির লক্ষ্য হলো ভ্যান্সকে বোঝানো যে, একটি আকস্মিক সামরিক হামলা ইরানের মৌলিক আলোচনার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর মধ্যপ্রাচ্যের কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে থাকব—এমনটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
তবে ট্রাম্প সামরিক হামলার সমর্থন করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ত্যাগ করতে রাজি নয়।
গত জুলাইয়ে ইরানি পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয়, যাতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরিদর্শকদের ফেরার আগে ইরানের ‘সমৃদ্ধকরণের অধিকার’ স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা কেবল চাহিদভিত্তিক সমৃদ্ধকরণ করবে এবং বর্তমানে তেহরান গবেষণা চুল্লির জন্য ২০% বা তার কম বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। এই চুল্লির জ্বালানি রাশিয়া থেকে আসে, যা মূলত হৃদরোগের মতো অসুস্থতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত মেডিকেল আইসোটোপ তৈরি করে।
উল্লেখ্য, গত জুনে মার্কিন বোমাবর্ষণে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে বুশেহরে ইরানের একটি রুশ-নির্মিত স্থাপনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রেও রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করে। এছাড়া তাদের ৬০% সমৃদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুদের বিষয়টি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো ‘ডাউনব্লেন্ডিং’ বা ঘনত্ব কমিয়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় আইএইএ সদর দপ্তরে দুই পক্ষ কারিগরি পর্যায়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সংস্থাটি তাদের ত্রৈমাসিক বোর্ড মিটিং করবে এবং মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকারের বিষয়ে আপডেট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রোসি বর্তমানে আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আছেন, তাই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এবি/