দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার বিরোধী নেতা এলেক্সেই নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ। তাদের দাবি, দক্ষিণ আমেরিকার ডার্ট ফ্রগ থেকে উৎপন্ন ‘এপিবাটিডিন’ নামের এক বিরল স্নায়ুবিষ ব্যবহার করা হয়েছিল।
নাভালনির মৃত্যুর দুই বছর পর তার দেহ থেকে পাওয়া নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। খবর বিবিসি
তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সাইবেরিয়ার একটি বন্দিশিবিরে কারাবন্দি অবস্থায় এই প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ রাষ্ট্রেরই ছিল।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘এই বিষ ব্যবহারের মতো উপায়, উদ্দেশ্য ও সুযোগ একমাত্র রাশিয়ান সরকারেরই ছিল।’
তিনি আরও বলেন, নাভালনির দেহে ‘এপিবাটিডিন’ পাওয়া যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা নেই।
কুপার সম্মেলনের ফাঁকে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। নাভালনায়া বলেন, শুরু থেকেই তিনি মনে করতেন তার স্বামীকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ সেই সন্দেহকে জোরালো করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এপিবাটিডিন দক্ষিণ আমেরিকার কিছু বন্য বিষাক্ত ব্যাঙের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। বন্দি অবস্থায় থাকা ব্যাঙ এই বিষ উৎপাদন করে না এবং রাশিয়ায় এটি স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না। ফলে নাভালনির দেহে এর উপস্থিতির কোনো ব্যাখ্যা নেই বলে দাবি ইউরোপীয় দেশগুলোর।
বিবিসি রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ জিল জনসন বলেন, এপিবাটিডিন মরফিনের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে কাজ করে পেশি খিঁচুনি, পক্ষাঘাত, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দন ধীর হওয়া, শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটাতে পারে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিষয়টি অরগানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনসকে অবহিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অভিযোগগুলোকে ‘অপপ্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নাভালনির মৃত্যুর পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় একে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সোচ্চার মুখ রাশিয়ার বিরোধী নেতা নাভালনি ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে ৪৭ বছর বয়সে মারা যান। এর আগে ২০২০ সালে তিনি ‘নভিচক’ স্নায়ুবিষে আক্রান্ত হন এবং জার্মানিতে চিকিৎসা নেন। পরে রাশিয়ায় ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুর আগে তিনি প্রায় তিন বছর কারাবন্দি ছিলেন। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে হাঁটার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে তিনি অচেতন হন এবং আর জ্ঞান ফেরেনি। তবে তার পরিবার ও ইউরোপীয় দেশগুলো শুরু থেকেই বিষপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে আসছে।
এবি/