দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের মধ্যাঞ্চলে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনায় ৫৫ দিন কোমায় থাকার পর আট বছরের এক শিশু অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছে। সহপাঠীদের রেকর্ড করা কণ্ঠস্বর ও বার্তাই তাকে জাগিয়ে তুলেছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার ও চিকিৎসকরা। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আবেগ ও অনুপ্রেরণার জন্ম দিয়েছে।
হুনান প্রদেশের ইউয়েয়াং শহরের শিক্ষার্থী লিউ চুসি গত বছরের নভেম্বর মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্ক এবং ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরপর সে টানা ৫৫ দিন কোমায় ছিল।
চিকিৎসকরা তখন লিউয়ের পরিবারকে জানায়, তার জ্ঞান ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তবে তার মা হাল ছাড়েননি।
চিকিৎসকদের একজন পরামর্শ দেন, পরিচিত কণ্ঠস্বর বা প্রিয় গান মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে প্রভাব ফেলতে পারে। আর এতে রোগীর জেগে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই পরামর্শে লিউয়ের মা প্রতিদিন তার স্কুলের সকালের গান ও ব্যায়ামের সুর শোনাতে শুরু করেন।
একই সময় লিউয়ের শিক্ষক তার সহপাঠীদের অনুরোধ করেন, তারা যেন ভিডিও বার্তায় বন্ধুকে ডাকে। এক সহপাঠী ভিডিওতে বলে, ‘চুসি, তাড়াতাড়ি জেগে ওঠো, আমরা একসঙ্গে ফুটবল খেলব।’ আরেকটি ভিডিওতে এক ছাত্রী বলে, ‘আমরা সবাই তোমাকে খুব মিস করি। যদি আমাদের কণ্ঠ শুনতে পাও, চোখ খুলো। পরীক্ষা আসছে, আমরা তোমার সঙ্গে পড়তে চাই।’
অন্য একটি ভিডিওতে এক সহপাঠী লিউয়ের প্রিয় গান গায়, কেউ কেউ শ্রেণিকক্ষের মজার ঘটনা শোনায়। লিউয়ের মা প্রতিদিন এসব ভিডিও এবং তার শিক্ষকের পাঠানো গণিতের ক্লাসের অডিও রেকর্ডিং ছেলের পাশে বসে চালাতেন।

৪৫ দিন পর লিউ চোখের পাতা নড়াতে শুরু করে। কয়েক দিন পর শিক্ষকের কণ্ঠ শুনে সে হেসে ওঠে। আর ৫৫তম দিনে সে পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে পায় এবং বাম হাত নড়াতে সক্ষম হয়।
এরপর শিক্ষক ও সহপাঠীরা হাসপাতালে তাকে দেখতে যায়। তারা খেলনা ও শুভেচ্ছা কার্ড নিয়ে আসে। তখন শিক্ষক মজা করে বলেন, ‘লিউকে আর হোমওয়ার্ক করতে হবে না। এতে সে খুশিতে চোখ খুলতে ও হাত নেড়ে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে।’
লিউয়ের মা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেঘের আড়াল থেকে অবশেষে সূর্য দেখতে পেলাম। সত্যিই একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি চিকিৎসক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলের এই ঘটনা যদি অন্য পরিবারকে আশা দিতে পারে, সেটাই আমার চাওয়া।’
লিউয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, যদিও তাকে এখনও দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গল্প ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে।
এদিকে এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘ছেলেটির হাসি দেখে চোখে পানি চলে এসেছে। তার মায়ের দৃঢ়তা আর শিশুটির শক্তি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’ আরেকজন লেখেন, ‘কিছু বিষয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাখ্যা করা যায় না। সেগুলো ভালোবাসা আর অলৌকিকতার জন্যই ছেড়ে দিতে হয়। চুসি অবশ্যই আবার স্কুলে ফিরবে।’
সূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
/অ